অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতা এবং প্রশিক্ষণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-২ শাখা হতে ০৯ অগস্ট ২০২১ তারিখে Zoom Platform/ অনলাইন বিষয়ভিত্তিক অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ (In House Training) আয়োজনের ক্ষেত্রে বক্তা সম্মানী , প্রশিক্ষণ ভাতা এবং অন্যান্য হারের প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়/ বিভাগ এবং অধীনস্থ অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর কর্তৃক Zoom Platform /অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ (In House Training) পরিচালনা ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ২২/০৫/২০১৯ খ্রিঃ তারিখের ১১১ নং স্মারক অনুযায়ী অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতা সম্মানী নিম্নরুপভাবে প্রদান করতে হবেঃ

(১) প্রশিক্ষণার্থীগণ ধার্যকৃত হারের অর্ধেক হারে অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

(২) আপ্যায়ন বাবদ কোন ব্যয় করা যাবে না।

(৩) প্রশিক্ষকগণ ধার্যকৃত হারে সম্মানী প্রাপ্য হবেন।

(৪) কোর্স পরিচালক, কোর্স সমন্বয়ক এবং সাপোর্ট স্টাফগণ ধার্যকৃত হারের অর্ধেক হারে সম্মানী প্রাপ্য হবেন।

Table of Contents

প্রশিক্ষণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা কি ?

  • প্রশিক্ষণ ভাতা: প্রশিক্ষনের জন্য যে ভাতা প্রদান করা হয়, তাকে প্রশিক্ষণ ভাতা বলা হয়।
  • দৈনিক ভাতাঃ জনস্বার্থে সদর দপ্তর হতে ৮ কিলোমিটারের বাইরে অবস্থান করার জন্য প্রতিদিনে জন্য ডেইলী ভাতা প্রদান করা হয়, দৈনিক ভাতা বলা হয়।

গুগল নিউজ হতে আপডেট ” নিউজ হতে আইবাস++ ও সরকারি নিউজের আপডেট সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

প্রশিক্ষণ ভাতা প্রজ্ঞাপন ?

অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতার প্রশিক্ষণে নির্দেশনার প্রশিক্ষণ ভাতা প্রজ্ঞাপন ২০২১ নিচে তুলে ধরা হলোঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ-১ শাখা

 www.mopa.gov.bd

স্মারক নং-০৫.০০.০০০০.২০০.২৯.০০১.২০.১৩৪  তারিখ:২৯ মার্চ ২০২১

পরিপত্র

বিষয় : অনলাইন প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, ২০২১।

১.শিরোনাম ও প্রবর্তন

এ নির্দেশিকা ‘অনলাইন প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, ২০২১’ নামে অভিহিত হবে। এই নির্দেশিকা গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং এই নির্দেশিকায় বর্ণিত পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে।

আরও জানুনঃ

সরকারি কর্মচারীদের দৈনিক ভাতার ও ভ্রমণ ভাতার নতুন হার ২০২৩ ?

.

সংজ্ঞার্থ

i.দূরশিক্ষণ (Distance Learning) : একটি আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান প্রক্রিয়া যেখানে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াসহ কোর্সের অধিকাংশ কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ার সময় প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীগণ একই জায়গায় অবস্থান করেন না। যুগপৎ শিক্ষণ (Synchronous Learning) এবং অসমনিয়ত শিক্ষণ (Asynchronous Learning) দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত;

ii.যুগপৎ শিক্ষণ (Synchronous Learning) : প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীগণ একই সময়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন;

iii.অসমনিয়ত শিক্ষণ (Asynchronous Learning) : প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীগণ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন;

iv. অনলাইন প্রশিক্ষণ (Online Training) : দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক আয়োজিত ‘Public Administration Training Policy’-এর আওতাভুক্ত প্রশিক্ষণ;

v.সরকারি দপ্তর : কোনো আইন, বিধি বা সরকারি আদেশবলে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ;

vi.সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান : কোনো মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান;

vii. মিশ্র পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ (Blended Training) : আংশিক সশরীরে প্রশিক্ষণ সেশনে উপস্থিত হয়ে এবং আংশিক অনলাইন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত প্ৰশিক্ষণ;

viii.বিশেষ পরিস্থিতি : নিম্নরূপ পরিস্থিতিসমূহ বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হবে-

(ক) ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’-এর আওতায় যে সময়ের জন্য ‘দুর্গত এলাকা’ হিসাবে ঘোষিত হয়;

(খ) ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এর আওতায় যে সময়ের জন্য ‘সংক্রমিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়; এবং

(গ) সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি যখন প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ থাকে না অথবা সীমিত হয়ে পড়ে।

ix.স্বাভাবিক পরিস্থিতি : বিশেষ পরিস্থিতি চলমান নয় এবং সরাসরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা সম্ভব এরূপ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসাবে গণ্য করা হবে।

আর জানুনঃ

আইবাস++ কর্মচারিদের ভ্রমন বিল অনলাইনে সাবমিট করার পদ্ধতি ? ibas++ta da staff login ?

 ৩. প্রয়োগ

“Public Administration Training Policy’-এর আওতায় দেশে/বিদেশে আয়োজিত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা অনলাইনে প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকার বিধান অনুসরণ করবে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে এই নির্দেশিকার বিধান অনুসরণ করতে পারবে।

8. অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান

নিম্নরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহ এই নির্দেশিকার বিধানসমূহ অনুসরণপূর্বক অনলাইন প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে পারবে—

i.সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ;

ii. সরকারের সঙ্গে চুক্তি অথবা সরকারের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় দেশের অভ্যন্তরস্থ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বেসরকারি সংস্থা ;

iii. সরকারের সঙ্গে চুক্তি অথবা সরকারের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি সরকারি/বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান; এবং

iv. দপ্তরের অভ্যন্তরীণ (ইন-হাউজ) প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর।

৫.স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনলাইন প্রশিক্ষণ

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সাধারণভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতে সশরীরে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণকে উৎসাহিত করা হবে। তবে অনলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ বিধান অনুসরণ করতে হবে—

(ক) স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মেয়াদি) কোর্স : প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুমোদনক্রমে নতুন স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনলাইনে পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রচলিত স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনলাইনে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবে;

(খ) আবশ্যিক/মৌলিক/বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহের ঊর্ধ্ব থেকে ৬ মাস মেয়াদি) এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৬ মাসের ঊর্ধ্বে মেয়াদসম্পন্ন) কোর্স: এরূপ প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিমূলক সেশন অনলাইনে পরিচালনা করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং শারীরিক অসামর্থ বা অন্য কোনো কারণে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে অপারগ এমন বক্তাগণ তাত্ত্বিক বিষয়ের সেশন অনলাইনে পরিচালনা করতে পারবেন। তবে অনলাইনে পরিচালিত সেশন সমগ্র কোর্সের ১০ শতাংশের বেশি হবে না; এবং

(গ) দপ্তরের অভ্যন্তরীণ (ইন-হাউজ) প্রশিক্ষণ: সরকারি দপ্তর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং অনলাইন প্রশিক্ষণের সক্ষমতা নিরূপণপূর্বক দপ্তর প্রধানের অনুমোদনক্রমে অভ্যন্তরীণ (ইন-হাউজ) প্রশিক্ষণ অনলাইনে আয়োজন করতে পারবে।

আরও জানুন: পেনশন আবেদনের সাথে কি কি ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদি দাখিল করা প্রয়োজন ?

৬. বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জির অন্তর্ভুক্ত নতুন প্ৰশিক্ষণ

পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পূর্ণ অনলাইনে বা মিশ্র পদ্ধতিতে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্নরূপ বিধান অনুসরণ করতে হবে—

(ক) আবশ্যিক/মৌলিক প্রশিক্ষণ: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের চাকরি স্থায়ীকরণ বা পদোন্নতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নতুন কোর্স অনলাইনে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোর্সের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি যদি এতটাই বিরূপ হয় যে কোর্সের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ কোনোভাবেই প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা সম্ভব নয় তা হলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ পরিস্থিতি পর্যালোচনাক্রমে সংশ্লিষ্ট কোর্সের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে;

(খ) স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মেয়াদি) কোর্স: অনলাইনে রূপান্তরের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে;

(গ) মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহের ঊর্ধ্ব থেকে ৬ মাস মেয়াদি) কোর্স: সাধারণভাবে মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রচলিত পদ্ধতিতে শুরু করাকে উৎসাহিত করা হবে। তবে ক্যাডার সংশ্লিষ্ট বা অন্যান্য পেশাগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণের বাধ্যবাধকতা থাকলে বা চাকরি স্থায়ীকরণ অথবা পদোন্নতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে নতুন কোর্স অনলাইনে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভবপর নয় এরূপ সেশনসমূহ প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে;

(ঘ) দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৬ মাসের ঊর্ধ্বে মেয়াদসম্পন্ন) কোর্স: এরূপ কোর্সসমূহ সাধারণভাবে অনলাইনে শুরু করা যাবে না। তবে অনলাইনে শুরু করা অপরিহার্য হলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে; এবং

(ঙ) দপ্তরের অভ্যন্তরীণ (ইন-হাউজ) প্রশিক্ষণ: সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং অনলাইন প্রশিক্ষণের সক্ষমতা নিরূপণপূর্বক দপ্তর প্রধানের অনুমোদনক্রমে বাৎসরিক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত অথবা বহির্ভূত অভ্যন্তরীণ (ইন- হাউজ) প্রশিক্ষণ অনলাইনে আয়োজন করতে পারবে।

৭.বিশেষ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত প্রশিক্ষণ বিশেষ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পূর্ব থেকে চলমান কোর্স পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্পূর্ণ অনলাইনে বা মিশ্র পদ্ধতিতে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্নরূপ বিধান অনুসরণ করতে হবে—

(ক) আবশ্যিক প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের অসমাপ্ত কার্যক্রম অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে এবং অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভব নয় এরূপ সেশনসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে;

(খ) অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি (৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মেয়াদি) এবং মধ্যমেয়াদি (৮ সপ্তাহের ঊর্ধ্ব থেকে ৬ মাস মেয়াদি) প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অসমাপ্ত কার্যক্রম অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভব নয় এরূপ সেশনসমূহের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে; এবং

 (গ) দীর্ঘমেয়াদি (৬ মাসের ঊর্ধ্বে মেয়াদসম্পন্ন) প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ অনলাইনে সমাপ্ত করা যাবে।

আরও জানুনঃ স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আজীবন পেনশন পাবেন কি ?পেনশনারের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে কী কী বিশেষ সুবিধা প্রাপ্য হন ? কারা আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন ?

৮.অনলাইনে উচ্চশিক্ষার অনুমোদন প্রদান এবং প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর

(ক) স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে অনলাইন মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা যাবে না এবং প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না; এবং

(খ) বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের যেকোনো পর্যায়ে সর্বোচ্চ একটি সেমিস্টার পর্যন্ত অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য অনুমোদন প্রদান এবং প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে। তবে কোর্স সমাপ্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ বিবেচ্য বিষয়টি যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৯.বিশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স

প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জির অন্তর্ভুক্ত না হলেও বিশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স অনলাইন মাধ্যমে চালু করার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহিত করা হবে। বাজেট বরাদ্দ এবং মনোনয়ন আহ্বানসহ অন্যান্য বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

১০. কর্মকালীন প্রশিক্ষণ ও পেশাগত ডিগ্রি অর্জন

(ক) দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দেশি প্রতিষ্ঠান অথবা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক পেশাগত সংস্থা (professional body) কর্তৃক পরিচালিত পেশাগত ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ এবং/অথবা সার্টিফিকেট অর্জন করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে কোর্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১ মাসের অধিক হবে না;

(খ) জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনলাইন প্রশিক্ষণে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করা যাবে; এবং

(গ) অনলাইনে অংশগ্রহণকৃত কর্মকালীন প্রশিক্ষণ এবং অর্জিত পেশাগত ডিগ্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/ কর্মচারীর ডোশিয়ার/পিআইএমএস-এ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

আরও জানুনঃ সরকারি চাকরিজীবী মারা গেলে পারিবারিক পেনশন কে কে পাবে ও পেনশনের উত্তরাধিকার কে কে ?একজন পেনশনার কিকি ভাতাদি পেয়ে থাকেন?

১১. মূল্যায়ন

(ক) প্রশিক্ষণার্থী কর্মচারীগণের অনলাইনে লিখিত পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট বা অন্য কোনো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘অনলাইন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নির্দেশিকা” প্রণয়নপূর্বক অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরুর পূর্বেই প্রশিক্ষণার্থীগণকে অবহিত করবে; এবং

(খ) অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরুর পূর্বে প্রশিক্ষণার্থীগণকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা সম্ভব না হলে বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিমার্জন করা প্রয়োজন হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে তা অবহিত করতে হবে।

১২. প্রশিক্ষণ ভাতা

কোর্স কনটেন্ট, কোর্সের মেয়াদ, ক্লাস সেশনের সময় প্রচলিত পদ্ধতির ন্যায় অপরিবর্তিত থাকলে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ভাতা অপরিবর্তিত থাকবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ডেটা, কম্পিউটার, প্রিন্টিং এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে নির্বাহ করতে হবে। অন্যান্য ভাতা অপরিবর্তিত থাকবে।

১৩. প্রশিক্ষকের সম্মানি

(ক) যুগপৎ শিক্ষণ (Synchronous learning) পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করা হলে প্রশিক্ষকগণ প্রচলিত পদ্ধতির সমপরিমাণ ঘণ্টাভিত্তিক সম্মানি প্রাপ্য হবেন;

(খ) অসমনিয়ত শিক্ষণ (Asynchronous learning) পদ্ধতিতে ভিডিও রেকর্ডিং-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ পূর্বপ্রস্তুতি (কন্টেন্ট প্রস্তুত, স্ক্রিপ্ট তৈরি, ভিডিও ধারণ ইত্যাদি কাজে) প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষকগণকে প্রচলিত সম্মানির সমপরিমাণ থেকে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পরিমাণ পর্যন্ত ঘণ্টাভিত্তিক সম্মানি প্রদান করা যাবে; এবং

(গ) অন্য কোনো অসমনিয়ত শিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্মানির হার নির্ধারণ করা যাবে।

১৪. অন্যান্য সম্মানি

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত অন্যদের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্মানির হার নির্ধারণ করা যাবে।

১৫. প্রশিক্ষণার্থীগণকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

(ক) সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হলেও প্রচলিত পদ্ধতির অনুরূপভাবে প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণার্থীগণকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীগণকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে; এবং

(খ) সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণ না হলে এবং কর্মকালীন প্রশিক্ষণ/পেশাগত ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীগণের কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

আরও জানুনঃ স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আজীবন পেনশন পাবেন কি ?পেনশনারের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে কী কী বিশেষ সুবিধা প্রাপ্য হন ? কারা আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন ?

১৬. প্রশিক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি ও ব্যবহার

(ক) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও পরিবীক্ষণে উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করবে। সফটওয়্যারটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগের অধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। প্রয়োজনের নিরিখে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে তার আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রশিক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবে; এবং

(খ) অনুচ্ছেদ ১৬ (ক)-এ উল্লিখিত প্রশিক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মানসম্পন্ন প্রচলিত দেশি/বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। যদি সরকারি অর্থে এমন কোনো সফটওয়্যার তৈরি করা থাকে যা সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার উপযোগী তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ব্যবহার করা

যাবে।

১৭. প্রশিক্ষণের তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রচার (Unauthorized sharing)

অনলাইন প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষকের অনুমোদন ব্যতীত কোনো সেশনের ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো অনলাইন ও প্রচলিত মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না। এরূপ অননুমোদিত প্রচার (Unauthorized sharing) করা হলে তা অসদাচরণ হিসাবে গণ্য করা হবে।

আরও জানুনঃ

সরকারি কর্মচারীদের দৈনিক ভাতার ও ভ্রমণ ভাতার নতুন হার ২০২৩ ?

১৮.বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property) ও স্বত্ব (Copyright)

(ক) অনলাইন প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ব্যবহৃত ভিডিও রেকর্ড, স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও স্বত্বের ক্ষেত্রে ‘কপিরাইট আইন, ২০০০’, এবং এ লক্ষ্যে প্রণীত অন্যান্য প্রচলিত আইন এবং বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে;

(খ) প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অর্থে কোনো পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারণকৃত ভিডিও এবং প্রস্তুতকৃত অন্যান্য কনটেন্টের স্বত্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংরক্ষিত থাকবে;

(গ) প্রশিক্ষকের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তি ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত ভিডিও এবং অন্যান্য কনটেন্টের স্বত্ব প্রশিক্ষক কর্তৃক সংরক্ষিত থাকবে এবং তা প্রশিক্ষকের অনুমতিক্রমে এক বা একাধিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ব্যবহার করা যাবে;

(ঘ) অনলাইন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে; এবং

(ঙ) অনলাইন প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত কনটেন্ট (লেকচার নোট, ভিডিও, প্রেজেন্টেশন স্লাইড ইত্যাদি) যেন প্রশিক্ষণার্থীগণ প্রশিক্ষণ চলাকালীন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে তা সংশিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ নিশ্চিত করবে।

১৯.অস্পষ্টতা দূরীকরণ করবে।

এই নির্দেশিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান

শেখ ইউসুফ হারুন   

  সচিব

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

অনলাইন প্রশিক্ষণ নীতিমালা ডাউনলোড করে রাখতে পারেন।

অনলাইন বিষয় ভিত্তিক অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্যতার আদেশ ২০২১ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন।

অনলাইন বিষয় ভিত্তিক অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্যতার ভিডিও দেখে নিন।

রিলেটেড ট্যাগঃ অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা প্রজ্ঞাপন,প্রশিক্ষণ ভাতা প্রজ্ঞাপন, প্রশিক্ষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা কি হিসাব, অনলাইন প্রশিক্ষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা বিধি, প্রশিক্ষণ ভাতা প্রজ্ঞাপন ২০২২, সরকারি প্রশিক্ষণ ভাতা

Reply

error: Content is protected !!